বেইলি রোডে আগুন: নিজেদের দায় দেখছে না রাজউক 

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে শুধুমাত্র গ্রিন কোজি ভবনের মালিক ও ভাড়াটেদের দায় দেখছে রাজউকের তদন্ত কমিটি। নিজেদের বা সরকারি অন্য কোনো সংস্থার গাফিলতি দেখছে না তারা। আগুনের এই ঘটনায় সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক না থাকায় আগুনের তীব্রতা বেড়েছে। পাশাপাশি ভবন ব্যবহারবিধি না মানলে গ্যাস, বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ না দেওয়াসহ ৬টি সুপারিশ তাদের।

গত ২৯ মার্চ রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুনে নিহত হয় ৪৬ জন। ঘটনার পর সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করে রাজউক। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শেষে এরই মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।  

প্রতিবেদন তুলে ধরে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক জানান, ভবনটির পাঁচ তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক অনুমোদন ছিল। বাকিগুলো আবাসিক। নির্মাণে কোনো ত্রুটি না থাকলেও অনুমোদিত নকশা এবং ব্যবহার যথাযথ অনুসরণ না করায় ঘটেছে দুর্ঘটনা। 

উজ্জল মল্লিক বলেন, ‘অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আমরা কোনো ব্যাতয় দেখি নি। আমরা দেখেছি ভবনটা ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে। আবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকগুলো সতর্কতাও অবলম্বন করা হয়নি।’ 

অবশ্য প্রতিবেদনে নিজেদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে রাজউকের তদন্ত কমিটি। অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া রাজধানীর কোনো ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহের মতো সেবা সংযোগ না দেয়াসহ ৬টি সুপারিশ করেছে তারা। 

উজ্জল মল্লিক বলেন, ‘যদি ভবনের অনুমোদন না থাকে, ভবনের যদি অকুপেন্সি না থাকে তাহলে অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিস দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ 

রাজধানীর রেস্তোরাঁগুলোর ভেতরের নকশা আগুনের তীব্রতা বাড়ানোর বড় কারণ বলেও মনে করছে তদন্ত কমিটি।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এ ঘটনায় কেউ দায়িত্ব এড়াতে পারে না। একে অপরকে দোষারোপ না করে সমন্বিত ভাবে কাজ করার পরামর্শ তাদের। 

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আখতার মাহমুদ বলেন, ‘যদি পরবর্তীতে এই ঘটনাগুলোকে রোধ করতে চাই তাহলে অবশ্যই এই ঘাটতিগুলোকে পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ এই ভবনগুলোতে যেখানে ব্যতয় আছে সেগুলো সংশোধন করত হবে। যেখানে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি, তাদেরকে সার্টিফিকেট নিতে বাধ্য করতে হবে।’ 

নিরাপত্তা ঝূঁকি বিবেচনায় রাজধানীর রুফটপ রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করার পক্ষে রাজউক।