গাজীপুরের শ্রীপুরে শরিফা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, নির্যাতন করে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলী গ্রামের মুরগীর বাজার এলাকার স্থানীয় মো. শাহজাহানের বাড়ি থেকে শরিফার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আকবর আলী খান।
নিহত শরিফা আক্তার (২৩) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলী গ্রামের মো. ইয়াসিন আরাফাত শুভর স্ত্রী। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। তাদের দাম্পত্য জীবনে ইশরাত জাহান নামে আড়াই বছর বয়সী একটি শিশুকন্যা রয়েছে। আটককৃতরা হলেন, নিহত গৃহবধূর স্বামী ইয়াসিন আরাফাত শুভ (২৬) শাশুড়ি ইয়াসমিন আক্তার (৪৫)।
শরিফার বাবা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে স্বামী শাশুড়ি মিলে মেয়েকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের কারণে বেশিরভাগ সময় শরিফা তার বাড়িতে থাকতো।’
সোমবার সকাল ১০ টার দিকে তিনি জানতে পারেন স্বামী-শাশুড়ি মিলে শরিফাকে মেরে ফেলেছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মেয়ের মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এমন কোন সপ্তাহ নাই যে সপ্তাহে ওরা মেয়েকে মারধর করেনি। সারারাত কত নির্যাতন, কত কষ্ট দিয়ে ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আকবর আলী খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী শাশুড়িকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’