পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলির ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী দুজন হলেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহিম খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু।
এ ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে দুই পক্ষের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করায় উপজেলার উথুলী মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে দুই পক্ষ তাদের অবরোধ তুলে নেয়। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম খানের কর্মী দেবাশীষ ঘোষ জয় শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেল সারে চারটার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহিম খানের নির্বাচনী ক্যাম্প এলাকা ডাক্তার খানা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউর রহমান খান জানুর কর্মীরা পোস্টার লাগাতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে রহিম খানের কর্মীরা জানুর কর্মীদের মারপিট করে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম রহমান খান রনি জানার পর তার চাচাতো ভাই আরুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোনায়েম মোস্তাকিন খান অনিককে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তার খানায় যাওয়া মাত্র সেখানে থাকা আব্দুর রহিম খানের ভাগ্নে শিবালয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ও কর্মী দেবাশীষ ঘোষ জয় তাদের গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে রনির কর্মীরা এগিয়ে গেলে আলাল ও জয় ঘোষ তাদের লাঠিসোঠা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। পরর নিজের জীবন রক্ষায় রনি নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম রহমান খান রনি বলেন, ‘আমাদের জনি ও সিয়াম নামের দুই কর্মীকে মারপিট করেছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ডাক্তার খানা এলাকায় যাবার পথে মহাসড়ক এলাকায় আলাল ও জয় ঘোষ গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে আমাদের কর্মীরা তাদের দিকে এগিয়ে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা করতে আসে। একপর্যায়ে নিজের জীবন রক্ষায় আমি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করি।’
তবে ফাহিম খান রনির অভিযোগ অস্বীকার করে দেবাশীষ ঘোষ জয় বলেন, ‘এই ঘটনা আমি কোনো ভাবে অবগত ছিলাম না। আমি স্থানীয় এমপি সাহেবের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। সেখান থেকে আমার বাড়ি ডাক্তার খানায় এসে দাঁড়িয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছি। এমন সময় রনি ও তার চাচাতো ভাই অনিক এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পরে আমার এলাকার মানুষ তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।’
জয় বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি শিবালয় থানায় রনি ও অনিকসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩০ জনের নাম দিয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিম খানের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রনির কর্মীদের রাস্তায় দাঁড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দেবাশীষ ঘোষ জয় নামের একজন অভিযোগ দিয়েছেন।
আগামী ২১ মে দ্বিতীয় দফায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খানসহ তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে।
এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ও তেউতা ইউনিয়নে দুই দফায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রহিম খান ও জানু একে অপরকে দোষারোপ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।