সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি এলেন জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর থার্ড অফিসার নাবিক তারেকুল ইসলাম। প্রিয়জন মুক্তি পেয়ে ফরিদপুরের বাড়িতে আসায় তাঁর পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
জলদস্যুদের হাতে এক মাসের বেশি জিম্মি ছিলেন বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিক তারেকুল ইসলামসহ ২৩ জন নাবিক। তাঁরা জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন গত ১৪ এপ্রিল।
এরপর আবার সাগর পাড়ি দিয়ে ৬৫ দিন পর বুধবার সকালে সোয়া ছয়টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছকরিকান্দি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তারেকুল ইসলাম।
এসময় জিম্মিদশা থেকে মুক্ত সন্তানকে কাছে পেয়ে খুশিতে বাবা-মায়ে বুক ভোরে উঠে। দেড় বছরের মেয়েটিও বাবাকে কাছে পেয়ে কোল থেকে নামছে না আর শিশুটি। পরিবারের সকলের মাঝে যেন আজ ঈদের আনন্দ। তাকে দেখতে ভীড় করছে স্বজন ও এলাকাবাসীরা।
তারেকুলের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ১২ মার্চ দস্যুদের হাতে ছেলে অপহরণের পর থেকে চরম উৎকন্টায় দিন পার হয়েছে তাদের। ছেলেকে আজ কাছে পেয়ে সকল কষ্ট ভুলে গিয়ে বুকটা হালকা হয়েছে। সুস্থভাবে আজ বাড়ি ফিরে আসায় তারেকুলের বাবা সরকারসহ সকল মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তারেকুলের মা হাসিনা বেগম জানান, ডাকাতদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ছেলে আজ বাড়িতে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। জলদস্যুদের হাতে আটকের পর ছেলের জন্য নফল রোজা, মানত আর দোয়া করে কান্নাকাটি করেছে তারা। ছেলে কে কাছে পেয়ে আজ তাদের ঈদের দিন ও খুশির দিন ।
ভয়াবহ সেদিনের কথা স্মরণ করে তারেকুল বলেন, ‘১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে চলার পথে হঠাৎ একটা ফিসিং বোর্ড দেখে। জাহাজটি যথাযথ ভাবে পরিচালনা করলেও ফিসিং বোর্ড থেকে দেখে স্প্রিড বোর্ডে করে কয়েকজন এসে তাদের জাহাজে উঠে পড়ে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। অস্ত্রের মুখে একে একে সবাই কে জিম্মি করে তারা। মেশিনগান, এ.কে.ফোর্টি সেভেন, রকেট লান্সারের মত ভারি অস্ত্র নিয়ে তাদের জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।’
তারপর অস্ত্রের মুখে এক একটি দিন পার করে তারা। প্রথমে খাবার সংকট হতে থাকে। তবে পানির সংকট বেশি দেখা দেয়। কারণ প্রথম দিকে দস্যুরা তাদের খাবারে ভাগ বসায় বলেও জানান তিনি।
সেই দুর্বিষহ দিনগুলো খুবই কঠিন ছিলো যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না জানিয়ে তারেকুল বলেন, ‘খাবারের কষ্ট বা শারীরিক নির্যাতন না করলেও মানসিক কষ্ট ছিল চরমে। আজ বাড়ি ফিরে বাবা-মা আর সন্তানের মাঝে এসে নতুন জীবন পেলাম।’
প্রসঙ্গ, মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে সোমালিয়া উপকূলের কাছে গত ১২ মার্চ জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। উপকূলের ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অস্ত্রের মুখে জাহাজ ও ২৩ নাবিককে জিম্মি করে জলদস্যুরা। এরপর ৩৩ দিন কাটে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে। গত ১৪ এপ্রিল মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয় ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি।