ভাওয়াল রিসোর্টের দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধারে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন

গাজীপুরে ‘বেনজীরের রিসোর্ট’ নামে পরিচিত ভাওয়াল রিসোর্টের দখলে থাকা ৩ দশমিক ৬৮ একর বনভূমি উদ্ধারে অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। এজন্য গত সপ্তাহে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে শনিবার নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বন বিভাগের ৩ দশমিক ৬৮ একর জমি উদ্ধারের বিষয়ে ভাওয়াল রিসোর্টের করা মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। এ কারণে জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে মামলায় রায় হয়েছে। আদালত স্থগিতাদেশটি প্রত্যাহার ও ভাওয়াল রিসোর্টের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নেই।’

আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এখন আইনীভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের দখলে থাকা বনভূমির জমি সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। আমরা আইন অনুযায়ী গত সপ্তাহে তাদের ৭ দিনের সময় দিয়ে উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছি। বনবিভাগের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। আশা করছি, ঈদের আগেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।’ 
এর আগে ভাওয়াল রিসোর্টের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত রোববার গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বজলুল হক, ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ডা. মো. সিরাজুল হকসহ ৬ জন বাদী হয়ে গাজীপুর ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান মরহুম আবুল হাসেমের ছেলে মো. শওকত আজিজ রাসেল, সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের উত্তর বানিয়ারচালা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মাস্টার, ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র ম্যানেজার সুমন ও একই প্রতিষ্ঠানের অপর ম্যানেজার মো. কামরুল ইসলামকে। আগামী ৬ নভেম্বর বিবাদীদের সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মামলার বিবাদীরা বাদী পক্ষের কেনা জমি দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন। মামলায় ‘ক’ তফসিলের ১০২ শতাংশ জমি বাদীর ষোল আনা স্বত্ব ঘোষণা করে রায় ও ডিক্রি প্রদান, ‘খ’ তফসিলে ১০২ শতাংশ জমি থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অ্যাডভোকেট কমিশন নিয়োগ করে মাপজোখের মাধ্যমে দখল হস্তান্তরের আদেশ দিতে আদালতের কাছে দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচতারকা মানের ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ইজ্জতপুর সড়ক ধরে চার কিলোমিটার ভেতরে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। সেখানকার নলজানী গ্রামে তিনদিকে বনভূমিবেষ্টিত এই রিসোর্ট এলাকার মানুষের কাছে ‘বেনজীরের রিসোর্ট’ নামেও পরিচিত। এ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারটির ওয়েবসাইটে এর জমির পরিমাণ ৩৫ একর (১০৫ বিঘা) বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, রিসোর্টের জায়গা ৫০ একরের কম নয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ভাওয়াল রিসোর্টের দখলে থাকা ৫০ একর জমির ৩ দশমিক ৬৮ একর জমি বন বিভাগের। আর নিরীহ কৃষকদের অন্তত ৪০ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে রিসোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে ১৯ একর জমি নিয়ে রিসোর্টটির কাজ শুরু হলেও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের ক্ষমতার জোরে রিসোর্ট মালিকরা প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করে নেয়।