হঠাৎ-ই বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল, স্বাভাবিক বলছে ডেসকো

মধুবাগ এলাকার বাসিন্দা মনিরা বেগম। গত মে মাসে তাঁর বাসায় বিদ্যুৎ বিল আসে ২ হাজার টাকা। জুন মাসে সেই বিল গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার টাকায়। খিলগাঁওয়ের এক বাসিন্দার মে মাসে বিল আসে ২ হাজার ৬ টাকা। সেই একই বাসিন্দার জুন মাসে বিল আসে ৫ হাজার ৩৯১ টাকা। মোহাম্মদপুরের আরেক গ্রাহকের বাসায় জুলাই মাসে শীতাতপ যন্ত্র বিকল ছিল, কিন্তু এসেছে জুন মাসের চেয়ে প্রায় ৫০০ টাকা বেশি। 

ইচ্ছেমতো বিদ্যুৎ বিল আদায়ের এমন অভিযোগ অহরহ। সম্প্রতি বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের এই অভিযোগ আরও বেড়েছে। গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানে এই অতিরিক্ত বিলের সুবিচার পাচ্ছেন না। আর রাজধানীতে বিদ্যুৎ বিতরণ করা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এই অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নাকচ করে বলছে, গরমে বিদ্যুতের ব্যবহারের সঙ্গে খরচও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রণালয়কে গ্রাহকের অভিযোগ পর্যবেক্ষণে বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিইআরসিকে সক্রিয় করতে হবে।

গ্রাহক অভিযোগের বিপরীতে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আবাসিক বিদ্যুতে ৬টি স্ল্যাবে বিল আদায় হয়। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সাত মাস গরমে বাড়ে বিদ্যুতের ব্যবহার।  

ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, গ্রাহকের ব্যবহার বেড়েছে বলেই বিল বেশি এসেছে। যখন গ্রাহকের বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায় তখন উপরের স্ল্যাবে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। তখনই গ্রাহকের ইউনিট রেট বেড়ে যাচ্ছে। বিল বেশি আসছে।

ভিডিও দেখুন:কেউ যদি মিটারের ভুল রিডিং দিয়ে ধরা পড়ে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন এই কর্মকর্তা। বলেন, ‘আমাদের যে বিলিং সফটওয়্যার রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত দেড়-দুই গুণ বিল হলে তা প্রিন্ট হয় না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নেই, এতেই বেড়েছে গ্রাহক ভোগান্তি। 

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যদি এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যায় তাহলে সেটির আলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গ্রাহক অভিযোগের মুখে বিদ্যুৎ বিল কমানোর নজিরও আছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ করে বিতরণকারী কোম্পানির স্বচ্ছতাকে ।