মাদকের কর্মকর্তা মামুন সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছেন, অভিযোগ তামিমের পরিবারের

দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিমকে বাসায় ঢুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মামুন ভয় দেখিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

আজ শনিবার দুপুরে তানজিল জাহান তামিমকে হত্যার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ অভিযোগ করা হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ও তাঁর সহকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন,  ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধানে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও বিচার পাননি তাঁরা। অবশেষে চোখের সামনে নির্দয়ভাবে মারা হয়েছে তামিমকে। পারিবারিকভাবে এ ঘটনায় এখনও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আছেন তাঁরা।

তাঁরা বলেন, এর আগেও এ ঘটনায় অনেকবার আক্রমণের শিকার হন তাঁরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুন ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের কর্ণধার বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবি সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবার রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী মহানগর আবাসিক এলাকার একটি ভবনে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিমকে বাসায় ঢুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের সঙ্গে নিজেদের জমিতে নির্মিত ভবনে ফ্ল্যাট পাওয়া নিয়ে তামিমের বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাঁর বাসায় আসে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল। এ সময় তামিমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় তাঁদের। একপর্যায়ে তাঁকে পেটানো শুরু করে। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় তামিমকে। তবে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তামিমের বাবা প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ জানান, চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল অবাসন প্রতিষ্ঠানটির। দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তরও করা হয়। বাকি তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার শ্বশুরের কাছে বিক্রি করেন প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ। এর জেরেই প্রাণ গেল তামিমের।

এ ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা। আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে।