রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় ১৩ বছরের গৃহকর্মী কল্পনাকে নির্যাতনের মামলায় গৃহকর্ত্রী দিনাত জাহান আদরকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর ওবায়দুল হক এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালত হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরোবিয়া খানমের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০ অক্টোবর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। কল্পনাকে নির্যাতনের ঘটনায় মা আফিয়া বেগম ভাটারা থানায় শনিবার মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আফিয়া বেগমের বোন রাজিয়া দিনাত জাহান আদরের বান্ধবী আলাবির বাসায় কাজ করতো। সেই সুবাদে আলাবির মাধ্যমে কল্পনা তিন বছর আগে ২০২১ সালের ১ জুন দিনাত জাহান আদরের বসুন্ধরার বাসায় মাসিক দশ হাজার টাকা বেতনে কাজের বুয়া হিসেবে কাজ শুরু করে। এরপর থেকে দিনাত কল্পনাকে তার মায়ের দেখা করতে দেয় নাই। বিভিন্ন সময়ে আফিয়া বেগম ফোনে মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলেও দেয় নাই। বাসার ঠিকানা চাইলেও দেয় না। ১৯ অক্টোবর ভাটারা থানা পুলিশের মাধ্যমে আফিয়া বেগম সংবাদ পান তার মেয়েকে আসামিরা শারীরিকভাবে মারধর করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ছেঁকা দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর পচাঁ দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত জখম করেছে। পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করে দিনাত জাহানকে আটক করে।
আফিয়া বেগমের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১ জুন থেকে দিনাত জাহানের বাসা বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় কাজে আসার কিছু দিন পর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিকাল পর্যন্ত কল্পনাকে ঠিকমত কোনো দিনই খেতে দেয়নি। কারণে-অকারণে দিনাতসহ অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ মারধরসহ চুল শুকানো মেশিন দিয়ে আগুনের ছ্যাঁকা দিতো, কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে তার হাতের নথ উঠিয়ে ফেলতো। রুম মোছার ব্রাশ দিয়ে মুখে বারি দিয়ে সামনের নিচের অংশের দুইটি দাঁত নাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন অনাহারে ও অর্ধাহারে থেকে কল্পনা শুকিয়ে গেছে। মারধরের ফলে মুখ, হাত-পা, পিঠসহ সমস্ত শরীরে ক্ষত চিহ্নে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।