সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, তার মা-স্ত্রী-মামা-চাচাসহ ১২ জনকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। এ জন্য ৩১ অক্টোবর ও ৩ নভেম্বরে তলব করা হয়েছে তাঁদের। বৃহস্পতিবার দুদক থেকে তাঁদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় এ সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়। সংস্থাটি জানায়, তলবে সাড়া না দিলে ধরে নেওয়া হবে, অবৈধ সম্পদের বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই অভিযুক্তদের।
ডিবি প্রধান থাকাকালে, রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষকে কার্যালয়ে ডেকে নিতেন হারুন অর রশিদ। ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনেকে দাবি করেন, এসব আড়াল করতে, আটককৃতদের খাবার খাওয়ানোর ভিডিও প্রচার করতেন তিনি।
অভিযোগ আছে, যেখানেই বদলি হয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন হারুন। দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও স্বজনদের নামে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যদিও তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন, এখনও যদি সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন চায়, যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে, সৎসাহস থাকে, দৃঢ়তা থাকে, তাহলে তিনি পৃথিবীর যে কোথাও যাক না কেন, অপরাধীর আজকের বিশ্বে পালিয়ে থাকার সুযোগ নেই।’
শুধু রাজধানীতে দুই ডজন বাড়ি, অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট-প্লটই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাইয়েও তাঁর অনেক সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য আছে দুদকের কাছে।
দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, ‘আমরা প্রথমে যে অনুসন্ধান হয় সেটার মাধ্যমে তাঁকে মামলা দেব। তদন্ত প্রমাণ হলে আমরা চার্জশিট দেব। এখন বর্তমান অবস্থায় আমাদের কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও এত সম্পদের মালিক হারুনের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগ আমলে কোনো পদক্ষেপ ছিল না দুদকের। তবে, গেল ১৯ আগস্টে, অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে তারা।