দিনে-দুপুরে অস্ত্র হাতে ছিনতাই, গোলাগুলি আর ডাকাতি- আড়াই মাসে যেন নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। শুধু জেনেভা ক্যাম্পেই গোলাগুলিতে নিহত ৬ জন। আর ক্যাম্পের বাইরে ৯ জন নিহত হন। এমনকি এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে, দুটি করে সেনাক্যাম্প ও পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। তবে কঠোর হাতে দমন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৬টা। রাস্তায় কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। পেছন থেকে হঠাৎ এক তরুণ দৌড়ে গিয়ে তাঁর পথ আটকায়। চাপাতি বের করে ব্যাগ ধরে টানতে থাকে। এগিয়ে আসে অস্ত্রধারী আরও ৪ জন। ব্যাগ নিয়ে টানা-হেঁচড়ার একপর্যায়ে তরুণীর হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয় একজন। জীবন বাঁচাতে ব্যাগ-ওড়না ফেলে দৌড়ে চলে যান ওই তরুণী।
গেল ৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার এভাবেই প্রকাশ্যে কোপানো হয় আরেক ব্যক্তিকে। উদ্দেশ্য ছিনতাই। গত আড়াই মাসে প্রকাশ্যে এমন হামলা যেন রোজকার ঘটনায় রূপ নিয়েছে মোহাম্মদপুরে। এই সময়ে জেনেভা ক্যাম্পসহ এই এলাকায় অন্তত ১০ জনের নিহত হওয়ার তথ্য মিলেছে। ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিতে থানা পর্যন্ত ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মোহাম্মদপুরে অস্থায়ী দুটি সেনা ক্যাম্প ও দুটি পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেলের (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বর্তমানে আমাদের যে জনবল এবং লজিস্টিক আছে সেগুলোর আমরা সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশি সেবাটা নিশ্চিত করার।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুনীম ফেরদৌস বলেন, কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। এগুলো আমাদের নজরদারিতে আছে। আমাদের যে অপারেশন টিম কাজ করছে। কেউ যদি অবস্থার পরিণতি ঘটাতে চায়, আমরা বলতে চাই– কেউ এটা থেকে রেহাই পাবে না।
আগস্টের পর থেকে সারা দেশেই নিরাপত্তা কাঠামো অনেকটাই ভেঙে পড়ায় এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন- বলছেন বিশ্লেষকেরা।
অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, এখন বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য তো তারা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) প্রতিনিয়াত মাঠে আছেনই। তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তনটা হচ্ছে না কেন। পেছনের কলকাঠি আসলে কারা নাড়ছে? সেটা অভিযানে বের করা কি খুব বেশি কঠিন কিছু? নিশ্চয়ই না।’
সরকার পতনের আগ পর্যন্ত মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের দখল ছিলো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হাতে। এখন এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে কারা তা চিহ্নিত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের শঙ্কা।