জীবিত স্বামীকে গণঅভ্যুত্থানে মৃত দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার আশুলিয়ায়। জীবিত আল আমিনকে বেঁচে থাকার জবানবন্দি দিতে থানা থেকে পাঠানো হয়েছে আদালতে। মামলার বাদীকে গ্রেপ্তারের পর সঠিক তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আশুলিয়ার বাইপাইলে বিজয় মিছিলে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান কুলসুম বেগমের স্বামী যান আল আমিন। গত ২৪ অক্টোবর ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন কুলসুম। আসামি করা হয় শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে।
আদালতের নির্দেশে গত ৮ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করে আশুলিয়া থানা। বিষয়টি জানার পর গ্রামের বাড়ি সিলেটে থাকাকালীন দক্ষিণ সুরমা থানায় জিডি করেন আল আমিন। পরে তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করে পুলিশ। বুধবার সেই মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিতে পাঠানো হয় আল আমিনকে।
আল আমিন বলেন, ‘আমার ওয়াইফ মামলা করেছেন ওনাদের নামে যে আমি ৫ আগস্ট আন্দোলনে মারা গেছি। এমনকি সে মানুষের কাছ থেকে টাকাও নিচ্ছে। যে টাকা দিচ্ছে তার নাম মামলা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে।’
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামির তালিকায় আছেন আশুলিয়ার আইকন পাবলিক স্কুলের পরিচালক রাজু আহমেদসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্য। আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর মিয়াকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, ‘আমি আশুলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েও আমাকে এবং আমার নেতাকর্মীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
আর রাজু আহমেদ বলেন, ‘এই মামলার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আন্দোলনের সাথে বা রাজনৈতিক ইস্যুর সাথে। আমি বা আমার পরিবার কেউই এসবের সাথে ছিলাম না।’
আইনজীবীরা বলছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়ের করলে বাদী ও সাক্ষীদের জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এধরণের মামলা থেকে রেহাই পেতে পারে সাধারণ মানুষ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান বলেন, ‘শুধু এই মামলার বাদী নয়ম, এমনকি এই মিথ্যা মামলায় যারা সাক্ষ্য দেবে তাদেরও জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। যারা মিথ্যা মামলা করছে তাদের কিন্তু আইনের আওতায় আসতে হবে।’
পুলিশ বলছে, স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে তারা আলাদা অবস্থান করছিলেন। তবে কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাদী মামলাটি করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, ‘জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে যে মামলাটা করল এর জন্য তার বিরুদ্ধে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যে আইনগত যে ব্যবস্থাগুলো আছে, সেগুলো করব।’
জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় ৮৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অনেক নিরীহ মানুষকে আসামি করার অভিযোগ রয়েছে।