মিঠামইনে নির্মাণ হচ্ছে সাবমারসিবল সড়ক, বিকশিত হবে জীবনমান-পর্যটন শিল্প

কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনে হাওরাঞ্চলে নির্মাণ হচ্ছে সাড়ে ১১ কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক। কাজ শেষ হলে হাওরের সঙ্গে জেলা শহরের সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন চলাচল সম্ভব হবে। হাওরবাসীর আশা, সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বদলে যাবে জীবনমান, বিকশিত হবে পর্যটন শিল্পও।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের চারিগ্রাম থেকে আটপাশা হয়ে ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে সাড়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমারসিবল সড়ক।

হাওর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয় সড়কের নির্মাণ কাজ। হাওরের অলওয়েদার সড়ক হয়ে জেলা শহরের সঙ্গে যুক্ত হবে সড়কটি। যা চালু হলে বদলে যাবে মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। সচল হবে অর্থনীতির চাকাও।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা কোনোদিন কল্পনা করিনি এখান থেকে পাকা রাস্তা হবে। রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এই রাস্তা হওয়াতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। শাক-সবজি-ধান কৃষি ফসল শহরে নিয়ে বেচতে পারি দ্রুত। আমাদের রাস্তা ছিল না। রোগী নিয়ে নৌকায় করে অনেক সময় লাগত হাসপাতালে যেতে। এখন অল্প সময়ে গাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যাবে।’

এরইমধ্যে সড়কের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। নির্ধারিত মেয়াদের আগেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে এলজিইডি।

কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই হাওরে প্রথম রাস্তাটি নির্মাণ করছি। এই রাস্তার প্রত্যেকটি মেটেরিয়াল বিশেষ করে রড, সিমেন্ট, বালু, পাথর আমরা ল্যাবরেটরীতে টেস্ট করে সর্বোচ্চ মান রাখার চেষ্টা করছি। কাজের গুণগত মানের ব্যাপারে কোনো আপোষ নেই। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজটি শেষ করব। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজটি শেষ করতে পারব। কাজটি সমাপ্ত হলে হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরণ হবে। এবং চলাচলের দ্বার খুলবে।’

১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।