ব্যাটারিচালিত রিকশার যন্ত্রাংশ আমদানিতে কড়াকড়ির তাগিদ

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারির রিকশা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এটি কয়েক ধাপে সরিয়ে নিতে বলছেন বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি এটি তৈরি ও যন্ত্রাংশ আমদানির বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের তাগিদ তাদের। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, দুর্ঘটনা বাড়তে থাকলেও, চাঁদা তুলতেই এর বৈধতা দিয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র। আর এ কারণে দেশে এর সংখ্যা এখন ৪০ লাখেরও বেশি।

গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীতে তিনদিনের মধ্যে অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই দিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হন শিক্ষার্থী আফসানা রাচি। এরপর আবারও ওঠে এসব বাহন বন্ধের দাবি। 

সড়কে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে এসব অটোরিকশা। নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গলি থেকে প্রধান সড়কে। 

নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলাচলে বেড়েছে দুর্ঘটনা। প্রধান সড়কে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অন্যান্য যানবাহনকে। বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একজোট হয়ে আন্দোলনে নামে চালকরা। ফলে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। 

খোদ রাজধানীতেই অবৈধ এসব বাহনের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। প্রশ্ন উঠেছে কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই দৌরাত্ম? 

এসব বাহন ঘিরে সারাদেশে চলছে শতকোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, আওয়ামী সরকারের আমলে ফুলে ফেঁপে ওঠে চক্র।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘পরিকল্পিত উপায়ে একেকটি রোডকে মডেল হিসেবে ধরে যদি উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেওয়া হয় তাহলে সরকারের যেমন সংকট তৈরি হতো না, ঠিক তেমনি করে অটোরিকশা চালকরাও একত্রে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেত না।’ 

এর আগেও অটোরিকশা বন্ধের সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ পরিবহন বিশেষজ্ঞদের। নতুন করে যন্ত্রাংশ আমদানি বন্ধের তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এই ঢাকা শহরেই দৈনিক প্রায় ১ হাজার এ ধরনের যানবাহনের জন্ম হচ্ছে। আমি বলব যে জন্মটা আগে বন্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্যাটারি ও মোটর যেটা আমরা বাহিরে থেকে আমদানি করছি এখানে একটা নিয়ন্ত্রণ লাগবে। এবং চার্জিং স্টেশনগুলি যেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এ ধরনের বাহন চার্জ করা হচ্ছে সেখানেও একটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

বর্তমানে সারাদেশে অটোরিকশা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখেরও বেশি। এসব বাহন চার্জে খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও।