মানিকগঞ্জের পদ্মা ও কালীগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় হুমকিতে পড়েছে সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ নানা স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় চলছে বালু উত্তোলন। যদিও নিয়মিত অভিযান চলছে বলে দাবি করছে প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অন্তত ১৫টি ড্রেজার দিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। এতে রাজনৈতিক কর্মীসহ স্থানীয় সাংবাদিকও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার ছত্রছায়ায় চলছে বালু উত্তোলন। একইভাবে ঘিওরে কালীগঙ্গার তরা সেতুর নিচ থেকে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিন্নাহ কবীর ও প্রয়াত বিএনপি নেতা আকবর হোসেন ডাবলুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলাকাবাসীর ।
এলাকাবাসী বলছেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিন্নাহ কবীর ও প্রয়াত বিএনপি নেতা আকবর হোসেন ডাবলুর ছত্রছায়ায় অবাধে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
গত ৫ আগষ্টের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে ভেঙে যাচ্ছে তীর রক্ষা বাঁধ। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কয়েক দফা অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানিকগঞ্জ সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, ‘মানিকগঞ্জের পদ্মা ও কালীগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় হুমকিতে পড়েছে সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ নানা স্থাপনা। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে নিজেরা কাজ করছি। মানিকগঞ্জের সর্বোচ্চ ফোরাম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি।’
তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় দিনই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছি। কেউ নিয়ম ভাঙলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে জেলা বিএনপি নেতারা বলছেন, কারো অবৈধ কর্মকাণ্ডের দায় নেবে না দল। অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তাঁদের।
মানিকগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, দলের কেউ যদি কোনো আইন বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয় সেই দায় তাদের দলের নয়।
প্রতি বছর জেলা প্রশাসন বালুমহাল ইজারা দেয়। আগামীতে ইজারা বন্ধ রাখার দাবি স্থানীয়দের।