বট–পাকুড়ের বিবাহবার্ষিকীতে ৫ হাজার মানুষকে আপ্যায়ন

বিয়ের উপযুক্ত চার ছেলে–মেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল কমল পালের। একদিন এলাকার একজন জানালেন এক অদ্ভুত স্বপ্নের কথা। ওই লোক স্বপ্নের বর্ণনা দিয়ে জানান, ইছামতি নদীর পাড়ে থাকা বট গাছ ও পাকুড় গাছের মধ্যে বিয়ে দিলে কমলের ছেলে–মেয়ের বিয়ের জট কাটবে। ২০০৬ সালের একদিন গাছ দুটোর বিয়ের আয়োজন করে বসেন কমল পাল। নদীর পাড়ে গাছ দুটো তিনি নিজেই রোপণ করেছিলেন।

বট–পাকুড়ের এই বিয়ের দিনটি ছিল বাংলা দিনপঞ্জির ১৮ অগ্রহায়ণ। অভিনব এই বিয়ের পর থেকে প্রতি বছর এই তারিখে কমল পালের নেতৃত্বে গাছ দুটোর বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করে আসছে গ্রামবাসী। বসছে গ্রামীণ মেলা। দিনে দিনে বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।  

ঘটনা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী গ্রামের। এবার বট ও পাকুড় গাছের বিয়ের ১৯তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। বুধবার থেকে বসেছে ৪ দিনব্যাপী গ্রাম্য মেলা। বট–পাকুড়ের বিয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে আজ পাঁচ হাজার লোককে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রতি বছর ১৮ অগ্রহায়ণ বট-পাকুড়ের বিয়েতে এলাকাবাসীসহ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে নিমন্ত্রণ করা হয়। এতে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা আসে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশির ভাগ অবিবাহিত যুবক-যুবতীদের দেখা যায়। খিচুড়ি-পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সবাইকে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমল পাল বলেন, ‘আমি স্থানীয় রাহেন সাধুর ভক্ত ছিলাম। তিনি মুসলমান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তাঁর আদেশে ৩৮ বছর আগে ইছামতি নদীর পাড়ে গাছ দুটো রোপণ করি। ২০০৬ সালের দিকে বাড়িতে বিয়ের বয়সী চার ছেলে-মেয়ে ছিল। কিন্তু তাদের বিয়ে হচ্ছিল না কিছুতেই। এক রাতে এলাকার একজন স্বপ্নে দেখেন বট-পাকুড়ের বিয়ে না দিলে ছেলে–মেয়েদের বিয়ে হবে না। ঐ বছরের ১৮ অগ্রহায়ণ বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলাম। ঐ বছরই বড় ছেলে বাবুল পালের বিয়ে হয়। পরের বছর বড় মেয়ে কল্যাণী পালের। এভাবে সব ছেলে–মেয়ের বিয়ে হয়। সেই থেকে ১৯ বছর যাবত এ উৎসব পালন করে আসছি। এলাকাবাসী আমাকে সহায়তা করছে।’