মাদারীপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশেই মেম্বারকে হত্যা, বলছে পুলিশের 

মাদারীপুরের কালকিনির বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের নির্দেশেই ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে আলাদা দুটি মামলায় ৯৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজন‌কে। আজ সোমবার দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকতার শিকদারের বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকটি হত্যা ও একাধিক সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনার মামলায় দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন আকতার শিকদারের পরিবার। ঘটনার দিন গত ২৬ ডিসেম্বর সকা‌লে আকতার শিকদা‌রের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও লুটপা‌ট হয়। খবর শুনে লোকজন নিয়ে ২৭ ডিসেম্বর ভোরে এলাকায় আসেন ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলে। এ খবর জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকতারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম‌্যা‌নের লোকজন ধাওয়া দিয়ে ইউপি সদস‌্য আকতার শিকদার ও তাঁর ছে‌লে মারুফ শিকদার‌কে কু‌পি‌য়ে হত‌্যা ক‌রে। এ ছাড়া আহত হয় আরও ৫ জন। আহতদের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম চৌকিদার নামে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। 

মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, এই ঘটনায় নিহত আকতার শিকদারের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে ৬৫ জনের নামে একটি মামলা করেন। আর নিহত সিরাজের বাবা রশিদ চৌকিদার ৩৪ জনের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায়ই প্রধান আসামি করা হয় বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও তাঁর ভাই মশিউর রহমান রাজনকে। 

এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাব্বির হোসেন শান্ত ও মোতালেব হোসেন মতুকে নিজবাড়ি থেকে র‌োববার রা‌তেই যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ ছাড়া মামলার বাকি আসামিদের ধরতে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।