জামিন পেয়েছেন শিশুর ভুল চোখে চিকিৎসা করা ধানমন্ডির বাংলাদেশ আই হসপিটালের শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহেদারা বেগম। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা রহমানের আদালত তাকে জামিন দেন। এসময় আদালত চত্বরে ডা. শাহেদারা বেগম সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।
এর আগে আসামি ড. শাহেদারা বেগমকে আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর সাইফুল আলম।
এ সময় আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। পরে আদালত তার জামিনের আদেশ দেন।
এরপর তাকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। তখন সাংবাদিকরা তার ছবি তুলতে যান। এসময় তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাংবাদিকদের নানা কটুক্তি করতে থাকেন। কেউ বলেন ভুয়া, ভুয়া। আবার কেউ বলেন মিডিয়া ব্যবসায়ী।
তারা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি তোলেন ও ভিডিও করে নিয়ে যান। পরে সাংবাদিকদের সাথে তাদের কয়েকজন কথা বলেন। তারা ডা. শাহেদারা বেগমককে একজন পরোপকারী চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। মামলাকে ভুয়া বলে দাবি করেন।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাহমুদ হাসানের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, চোখে সমস্যার কারণে দেড় বছরের শিশু ইরতিজাকে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা ধানমন্ডির বাংলাদেশ আই হাসপাতালে নিয়ে যান। বাম চোখের মধ্যে ময়লা জাতীয় বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়।
পরে সেখান থেকে বের করার পর স্বজনরা দেখতে পান বাম চোখের জায়গায় শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হয়েছে ডান চোখে। তখন বিষয়টি শাহেদারাকে জানালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ইরতিজার বাম চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. মাহমুদ হাসান ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।