মুন্সিগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে তিন দফা মারামারি, আহত ২০ 

মুন্সিগঞ্জে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে তিন দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসব মারামারিতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১০ জনের উপরে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

আজ সোমবার বিকাল ৪টার দিকে শহরের সুপার মার্কেট চত্বর ও পিটিআই চৌরাস্তা এলাকায় এই মারামারি ঘটনা ঘটে। 

আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলো— নাদিম (১৭), মেহেদী হাসান (২৬), অপু খান (১৯), আরিফজুজ্জামান (৩৭), উজ্জ্বল (৪৫), মাসুদ (২০), মনির হোসেন (৫৮), জসিম উদ্দিন (৫২)। বাকিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। 

জানা গেছে, জেলা বিএনপির সমাবেশে যোগদানকালে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির মিছিলে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মেহেদী হাসান ও অপু খান নামের দুজনকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওহিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাকির সরকার, বিএনপি নেতা আতিক মল্লিকসহ একটি মিছিল জেলা বিএনপির সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে শহরের সুপার মার্কেট চত্বর এলাকায় পৌঁছলে তাদের প্রতিপক্ষ রহিম মোল্লার কর্মী সর্মথকরা মিছিলের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এসময় তাদের সরাতে গেলে মিছিলের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। 

অপরদিকে, শহরের দক্ষিণ ইসলামপুরের যোগীনিঘাট এলাকার সাথে মোল্লার চর এলাকার লোকজনের মধ্যে দুই দফা মারামারি হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। 

মারামারি বিষয়টি দুঃখজনক দাবি করে বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের মিছিলের সামনে রহিম মোল্লার লোকজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের সরাতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালায় তারা। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে আমাদের কমপক্ষে ৫ জনকে আহত হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। 

তবে নিজেরা হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করে রহিম মোল্লা বলেন, ‘আওলাদ হোসেন মোল্লার মিছিল থেকে আমার কর্মী–সর্মথকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, সামাবেশে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ইসলামপুর দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েছি। অপরদিকে মোল্লাকান্দির দুই গ্রুপে মারামারি হয়েছে। তবে থানায় কোনো গ্রুপই লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেনি। কতজন আহত হয়েছে তাও জানা যায়নি।