চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনে এক বিস্ফোরণে দুজন মারা যান। তখন এই ঘটনাকে ‘এসি বিস্ফোরণ’ বলা হলেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাবি করছে, ফাউন্ডেশনের কোটি কোটি টাকার হিসাব গরমিল করতেই অকটেন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। আর এতে মারা গেছেন দুজন।
আজ সোমবার রাজধানীর কল্যাণপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবদুর রহমান। তিনি জানান, এরই মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে দুজন মারা গেছেন, এরাও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আবদুর রহমান বলেন, বিয়াম ফাউন্ডেশন সমিতির কোটি কোটি টাকা হিসাব গরমিল দেখে দলিল লুকাতে চক্রটি আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তাঁর সহযোগী আশরাফুল ইসলামের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের সূত্র ধরে এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করে পিবিআই। এই আগুনের ঘটনায় সমিতির জমির দলিল, ব্যাংক ড্রাফট এবং রেজিস্ট্রার খাতা পোড়ানোর দাবি করে চক্রটি।
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগুনে নিহত অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক ও সমিতি সেক্রেটারির গাড়িচালক মো. ফারুকও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাঁরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা যায়। তাঁদের মরদেহে এসি বিস্ফোরণজনিত ক্ষত ছিল না। তাঁরা আগুনে পুড়ে মারা যান।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন সেদিন সাংবাদিকদের জানান, ভোর ৩টা ৩৪ মিনিটে কল পেয়ে তাদের তেজগাঁও স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সেখানে যায়। ভোর সোয়া ৪টার দিকে তারা আগুন নেভায়।
বিয়ামের ওই স্থাপনায় বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি মিলনায়তন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে দশ তলা ভবনের পাঁচ তলায় বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির একটি অফিস কক্ষে আগুন লাগে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সেখানে এসিতে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে খালেদা ইয়াসমিন জানান।