কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদ নির্বাচনে বেগম সুফিয়া কামাল হলের সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। শনিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়।
এ সময় নির্বাচন কমিশন জানায়, হলটিতে মোট ভোটার ছিল ৪৫৬ জন। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হওয়ায় সব প্রার্থীকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় জাকসু ও হল সংসদের ভোট। ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মেলন এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ।
এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয় ছাত্রশিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম এবং স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ। অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ছিলেন ৯ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থীতা করেন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন।
২১টি হল সংসদের প্রত্যেকটির পদসংখ্যা ১৫। মোট পদ ৩১৫টি। এতে ৪৪৭ জন প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিল না এবং একজন করে প্রার্থী ছিল ৬৭টি পদে। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হয়।
ছাত্রদল ও কয়েকটি বাম সংগঠনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিএনপিপন্থি শিক্ষকও জাকসু ভোট বর্জন করেছেন। নির্বাচনে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচন কমিশনের দুইজন সদস্যও।