রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে পাঁচ ঘণ্টায় আগুনে পুড়েছে দেড় হাজার ঘর। নিঃস্ব হয়েছেন রিকশাচালক, গৃহকর্মী আর দিনমজুর। খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন লাগে। রাত সাড়ে ১০টার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনাস্থলে আজ বুধবার সকালে গিয়েও দেখা যায় ধোঁয়া।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গুলশানের আশপাশ। দাউদাউ আগুন জ্বলতে থাকে কড়াইল বস্তি। অভিজাত এলাকা লাগোয়া ৯০ একরের এই বস্তিতে প্রায় ১০ হাজার ঘর রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবিকার তাগিদে বস্তির অধিকাংশ নারী ব্যস্ত ছিলেন গুলশান বা বনানী এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে। পুরুষরাও ছিলেন বাইরে। এ কারণে আগুন থেকে বাঁচানো যায়নি ঘরগুলোর জিনিসপত্র। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর অঙ্গার হওয়া ধ্বংসাবশেষে জিনিসপত্র খুঁজতে দেখা যায় অনেক বস্তিবাসীকে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আকাশে এখনও রয়েছে ভয়াবহ আগুনের কালো ধোঁয়া।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা উত্তরের প্রশাসক।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে বেশিরভাগ ঘরই বাঁশ-কাঠ আর টিনের তৈরি। দাহ্য পদার্থের পাশাপাশি বাতাসের কারণেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। এতে পুড়ে যায় বহু ঘর।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলছেন, বস্তির বেশিরভাগ বাসিন্দা পোশাককর্মী, রিকশাচালক, হকার আর দিনমজুর। বিকেলে আগুন লাগার সময় তাদের অনেকেই বাড়িতে ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে সাতটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় রাত ৮টার মধ্যে আরও ১২টি ইউনিট যোগ দেয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
চলতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এই বস্তিতে অর্ধশতাধিক ঘর আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়া গেল বছরের ২৪ মার্চ ও ১৮ ডিসেম্বরেও আগুনে পুড়ে কড়াইল বস্তি।