মুন্সিগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের জেলা সদরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চরআব্দুল্লাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম জসিম নায়েব (২৮)। তিনি ওই এলাকার মাফিক নায়েবের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনে জসিম ও তাঁর পরিবারের লোকজন এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক পরাজিত হলে এদিন বিকেল ৩টার দিকে একই গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করে জসিমসহ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি পেটায়।

নিহতের ভাই মশিউর নায়েব দাবি করেন, তাঁর ভাই ও পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক একই গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক নাসির আহমেদ ও তাঁর ছেলে শাকিলের নেতৃত্বে শতাধিক লোক নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তাঁর ভাই জসিমসহ কয়েকজনকে বেধড়ক পেটান তাঁরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরেই হামলায় জসিম মারা গেছে বলে স্বীকার করেন ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শাকিল দেওয়ান। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। বলেন, সকালে জসিমের লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাঁর অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা করে জসিম ও তাঁর লোকজন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে তাদের মারধর করলে জসিমসহ কয়েকজন আহত হয়।

এ বিষয়ে আধারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার মিজি বলেন, ‘নিহত জসিম স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। তাঁর পরিবারের লোকজনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন। হামলাকারীরা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক।’ 

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। দিনব্যাপী চরাঞ্চলের বিভিন্ন সহিংসতার খবর পাচ্ছি। তবে নিহতের ঘটনাটি পূর্ব-বিরোধ, নাকি নির্বাচনকেন্দ্রীক-তা খতিয়ে দেখছি।’

এ প্রসঙ্গে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ‘আমরা সংবাদ পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়েছেন। কি ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’