ঘরে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

মাদারীপুরে সাথী নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরের যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

রোববার সকালে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মহিষেরচর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নারী একই এলাকার অহিদুল খানের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, অল্প কিছুদিন আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা কাইয়ুম বেপারীকে বিয়ে করেন সাথী। বিয়ের কিছুদিন পরই কাইয়ুম বেপারী ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়ে লিবিয়া চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সাথীকে প্রায়ই তাঁর শ্বশুর গোলাম বেপারী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। মৃত্যুর আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে স্থানীয়রা সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খবর জানাজানি হওয়ার পরপরই সাথীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গোলাম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অভিযোগ, শ্বশুরেরযৌন ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই সাথী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে নিহত সাথীর শ্বশুর গোলাম বেপারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’