ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে জোসনা বেগম (২১) নামের এক গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামী রাশেদ মোল্যাকে (৩১) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। একই মামলায় আরেক আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় অপর একটি ধারায় রাশেদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে তিনি এই দুই ধারার কারাদণ্ড একই সাথে ভোগ করতে পারবেন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত (জেলা ও দায়রা জজ) এর বিচারক শামিমা পারভিন এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ মোল্যা জেলার সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ঘোরাদাহ গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের শিকার স্ত্রী জোসনা বেগম একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে জোসনা এবং রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর রাশেদের দাবির মুখে নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরপর জোসনা বেগমের স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল বিক্রি করের রাশেদ। এসব টাকা দিয়ে রাশেদ মাদক সেবন করতেন।
২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও স্ত্রী জোসনা বেগমের কাছে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। এই টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে গুরুতর আহত হন জোসনা বেগম। এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জোসনা বেগমকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৭ জুলাই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই (১৭ জুলাই) জোসনা বেগমের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাশেদের পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও (৩৪) আসামি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, এই ঘটনায় দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে স্বামী রাশেদকে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও তার ভাই হাসিব মোল্লার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।