রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। পাম্প মালিকদের দাবি, তেলের সরবরাহ কম থাকায় অপেক্ষা বাড়ছে এবং তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। এর ফলে পাম্প এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালু হওয়া ‘ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড’ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
বুধবার সকালে রাজধানীর ১২টিরও বেশি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক স্টেশনে ‘তেল শেষ’ বা ‘সরবরাহ বন্ধ’—এমন নোটিশ ঝুলছে। যেসব পাম্পে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘ভোর ৫টায় এসেছি, এখন বাজে প্রায় ১১টা। বলা হচ্ছে, দুপুর ২টার পর তেল দেবে। ৭–৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।’
পাম্প–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে ডিজেলের। ফলে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আরেকজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাত ১০টা থেকে বসে আছি। ৩–৪টি পাম্প ঘুরেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছি না।’
একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, ছুটির কারণে গতকাল জ্বালানি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে আজ চাহিদা অনেক বেশি। আজ ১৮ হাজার লিটার অকটেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
এদিকে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ডের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। কার্ড ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব ও প্রযুক্তিগত জটিলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি নিতে আসা একজন চালক বলেন, ‘শুধুমাত্র ঢাকা মেট্রোর গাড়িগুলো নিবন্ধন করতে পারছে। ঢাকার বাইরের গাড়িগুলো কোনো কাজ করছে না। সব জেলার গাড়ির জন্যই এটি উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।’
জ্বালানি তেলের এই সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা।