অপেক্ষার শেষ নেই, ১২ বছরেও হয়নি নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের বিচার

১২ বছরেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের। হাইকোর্টে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর, গত সাত বছর ধরে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে আপিল বিভাগে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আসামিপক্ষ সারসংক্ষেপ জমা দিলেই, যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা। আসামিদের সাজা কার্যকর দেখতে, দীর্ঘ অপেক্ষায় হতাশ হয়ে পড়েছে নিহতদের পরিবার। তাঁদের প্রত্যাশা, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির পদক্ষেপ নেবে নতুন সরকার।

সময়টা ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনাটি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিমকেও তুলে নেওয়া হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি মরদেহ, পরদিন পাওয়া যায় আরও একটি।

দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সাত খুনের এ ঘটনায়। শুরু হয় বিচার কাজ। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের আদালত ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন)র‍্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর মধ্যে র‍্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে হাইকোর্ট এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর পর থেকে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে মামলাটি।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘এই মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়নি। আপিল করেছেন দণ্ডিত ব্যক্তিরা। বিচার প্রক্রিয়ানুসারে তাদেরকে সার সংক্ষেপ দিতে বলা হয়েছে। এর পরই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর দায়িত্ব চলে আসবে। আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।’

স্বজন হত্যার বিচার পেতে ১২ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা নিহতের স্বজনেরা জানান, তাঁদের আক্ষেপের কথা। বলেন, গত সাত বছর ধরে আপিল বিভাগেই ঝুলছে মামলাটি। দ্রুত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের সহযোগিতা চান তাঁরা। 

এক ভুক্তভোগীর ভাই জানান, দীর্ঘ ১২ বছরেও কোনো বিচার না পেয়ে এক রকমের হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নিহতদের স্বজনেরা।

মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলে গেছেন, যদি কখনও বিএনপি ক্ষমতায় আসে নারায়ণগঞ্জের এই সাত খুনের বিচার আমরা করব।’

হাইকোর্টে র‍্যাবের ১৪ জনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন, আপিল বিভাগেও বহাল থাকার প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।