গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাগচালা এলাকায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জন গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে। আর অপর মামলায় চোর চক্রের ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম।
ওসি বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা এলাকায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে বাগচালা এলাকার গৃহকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এর আগে শনিবার রাতে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাগচালা গ্রামে ১০-১২ জনের চোরের দল পিকআপ নিয়ে গরু চুরি করতে যায়। তারা স্থানীয় আবু বকর সিদ্দিকের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি করতে গেলে এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে চারদিক দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে গণপিটুনিতে মারা যান সিলেট সদর থানার ঘাসিটোলার কমলা কান্তর ছেলে কৃষাণ (৪৬), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বদনী ভাংনা এলাকার শরাফত আলীর ছেলে আজহারুল ইসলাম (৩৬) ও রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে মো. সেলিম (৩৮)। তারা সবাই আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের নিয়ে আসা পিকআপটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।