বৈরি আবহাওয়া বা মুষলধারে বৃষ্টি- সবকিছু উপেক্ষা করেই বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ। স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নদীপথে বাড়ি ফিরছেন লাখো মানুষ। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ফিরেছে পুরনো রূপে। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ঈদ উপলক্ষে ডেকে ১০ শতাংশ কম ভাড়া না নেওয়ায় ১৫টি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে। ট্রলারে করে লঞ্চে কোনো যাত্রী উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লাখো যাত্রী। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ একা। কেউবা আবার লঞ্চের ডেকে শুয়ে স্বপ্ন দেখছেন বাড়ি ফেরার। ঈদের ছুটিতে বহুদিন পর আবারও আপন ছন্দে ফিরেছে এই ব্যস্ত নদীবন্দর।
নদীপথের এই যাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নয়। এ যেন ভালোবাসা, স্বপ্ন আর পরিবারের টানে বাড়ি ফেরার গল্প। ঈদের আনন্দ নিয়েই ঘরে ফিরছে মানুষ। নদীর বুকে ভাসছে তাদের প্রত্যাশা আর সুখের গল্প। তবে, এবার স্বপ্ন বাড়ি ফিরছে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। তবে তাতেও খুব একটা খেদ নেই যাত্রীদের। বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাটাই এখন মুখ্য।
যাত্রীদের একজন জানালেন, 'এখনতো কালবৈশাখী ঝড়। এই দিনেতো একটু ঝড়-তুফান হয়-ই। তারপরও ভয়কেইতো জয় করে যেতে হবে।'
হাসিমুখে আরেক যাত্রী বললেন, 'সবার সাথে ঈদ করব, এজন্য আনন্দ, এজন্য যাচ্ছি। নাইলেতো এই ঝড়ের মধ্যে যাওয়া হয় না। ভয়তো লাগেই, তারপরও সবার সাথে ঈদ করার আনন্দের চাইতে এই ভয় কিছুই না।'
যাত্রীদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ঘাটে প্রস্তুত পর্যাপ্ত লঞ্চ। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তৎপর কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ'র যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জানান, আবহাওয়ার কারণে রাস্তায় যাত্রীদের আসতে একটু কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে ঢোকার পরে প্রত্যেকটা যাত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন যে, তারা ফ্রি কুলি পাচ্ছেন, হুইলচেয়ার পাচ্ছেন, ট্রলি পাচ্ছেন, এবং সরকারি রেটের চেয়ে ভাড়া আরও কম নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবার প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি সেবা ও হুইলচেয়ায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।