ঈদের নতুন জামা কিনে আর বাড়ি ফেরা হলো না শিশু সাফওয়ান হাসেন ও তার মায়ের। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে নরসিংদী রেল স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন তারা। এতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে তাদের পরিবারে।
নিহতরা হলেন–শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাঁর ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন।
নিহতের স্বজনেরা জানান, শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার দিনমজুর সুজন মিয়া কখনো ইজিবাইক আবার কখনো রাজ মিস্ত্রির সহযোগি হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বুধবার বিকেলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে নিয়ে কেনা-কাটা করতে নরসিংদী শহরে যান। দুই সন্তানের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম অতিক্রমের সময় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় মা-ছেলে।
সুজন মিয়ার ৯ বছর বয়সী সামিয়া নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এক সাথে থাকলেও কাকতালীয়ভাবে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় অপর কন্যা শিশুটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, ‘আমার সামনে আমার অবুঝ শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হারিয়েছি। ঈদে আমি কি নিয়ে থাকব। ট্রেন আসছে দেখতে পেয়ে তাকে আটকানোর জন্য ডাক-চিৎকার করে চেষ্টা করেও লাভ হয়নি।’
দুর্ঘটনার পর স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়েছিলেন সুজন মিয়া। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্লাটফর্মের এক নম্বর স্টেশনে একটি ট্রেন দাড়ানো ছিল। তখনই কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করছিল। এসময় ওই পরিবারটি প্লাটফর্ম এলাকায় রেললাইনের উপরে থাকায় দ্রুত গতির ট্রেনটি তাদের ধাক্কায় দিয়ে ছিটকে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।