মানিকগঞ্জে শতাধিক ইটভাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। সদর উপজেলায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও ইটভাটার বর্জ্যে কারণে নষ্ট হচ্ছে প্রায় দুইশো বিঘা ফসলি জমির ধান। শুকিয়ে যাচ্ছে গাছ, পাতায় দেখা দিয়েছে পোড়া দাগ। কষ্টের ফসল জমিতেই নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা কৃষক।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বরুন্ডি ও মিতরা এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানের খেত। কিন্তু কৃষকের স্বপ্নের ফসল খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। সবুজ পাতাগুলো হয়ে গেছে বিবর্ণ ।
চাষিরা বলছেন, আশপাশের ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া পরিবেশ নষ্ট করছে। পাশাপাশি ছাই সরাসরি ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে শত-শত বিঘা জমির ফসল । ইটভাটার মালিকদের কাছে বার বার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি।
এদিকে, এনবিসি ব্রিকসের ম্যানেজার হযরত আলীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তবে কাকে কত টাকা দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোজাফ্ফর খান বলেন, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না।
আর জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, ‘অনাবাদি জমি ছাড়া ইটভাটার অনাপত্তিপত্র উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দিতে পারেন না। অনেক সময় কৃষি অফিসের অনাপত্তিপত্র ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে কৃষিজমিতে ইটভাটার অনুমোদন বন্ধে উপজেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
জেলায় মোট ইটভাটা ১১৮টি। এর মধ্যে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১৪টি। এগুলো বন্ধে প্রশাসনের জোরাল ভূমিকা চান এলাকাবাসী।