রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় তুরাগ নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া রনি মোল্লা ছিলেন মাদকাসক্ত। দুইবছর ধরে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়েছেন চিকিৎসা। কোনো দলের সাথে কখনোই তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলে জানিয়েছে পরিবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িয়ে বিভিন্ন পোস্টে বিব্রত পরিবারটি। এদিকে, পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
গেলো ২৪ জুন তুরাগ নদীতে পাওয়া যায় রনি মোল্লার মরদেহ। রাজধানীর মনিপুরে বারেক মোল্লা এলাকায় তাদের বাড়িতে শোকাহত বাবা-মা-বোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নিহত হয়েছেন তিনি। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ করে দিয়েছেন রনির পরিবার।
রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, 'এটা অসম্ভব। আমরা এটা জীবনেও বিশ্বাস করবো না যে ও রাজনীতি করে (করত)। আমার ছেলে সাঁতারও জানত না। আমরা ওইটাই বিশ্বাস করেছি, যে কেউ মারে নাই ওকে। যেসময় প্রথম আমাকে ভিডিও দারোগা সাহেব দেখিয়েছে, তখনও দেখেছি ও (রনি মোল্লা) একেবারে হলুদ...পরিষ্কার। আমরা গিয়েও দেখেছি যে, কোনো আঘাত ছিল না ওর (শরীরে)।'
পরিবারটি জানায়, গত দুই বছর ধরে মিরপুরের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নর্থ স্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন রনি। কোরবানির ঈদের পর থেকে অনেকটাই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি। তুরাগ নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের ফোনে মৃত্যুর কথা জানতে পারে পরিবার।
রনির মা জুলেখা বেগম বলেন, 'ও কিন্তু সরল-সোজা ভালো ছিল। আদবটাদব সবই আমি শিখিয়েছি। মানুষকে দেখলে সালাম দিত। দোষ একটা ও সিরাপ খেত, ঘরের যা পেত সব নিয়ে যেত। মারধর করত না।'
পুলিশের দাবি, তুরাগ নদীতে যাদের মরদেহ পাওয়া গেছে তাদের কারো অতীতে রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। শরীরে নির্যাতনের বা সন্দেহজনক কোনো চিহ্নও ছিলো না দাবি পুলিশের।
ডিএমপি'র অতিরিক্ত কমিশনার, (অপরাধ) নজরুল ইসলাম বলেন, 'এটা সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা। একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা এবং বানোয়াট একটা কিছু ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দিছে। এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটে নাই।'
গত ২২ থেকে ২৪ জুন তুরাগ নদী থেকে ৩টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ সদর ও ডিএমপি।