রাজধানীর তিন জায়গায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: আহত ৫ জন ঢামেকে 

রাজধানীর পৃথক তিন স্থানে প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতাসহ পাচজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে রাজধানীর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং ঢাকা কলেজ এলাকায় এসব সংঘর্ষ হয়। 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নেছারুদ্দীন রাব্বির (২৬) ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সানাউল্লাহ (৩০) নামে ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়কও গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আহত নেছারুদ্দীন রাব্বি বলেন, আমরা ২-৩ জন বন্ধু শিক্ষা বোর্ডের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় কয়েকজন এসে "নারায়ে তাকবীর" ধ্বনি দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত হই পরে বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। ধারণা করছি ওরা সবাই শিবিরের কর্মী।

নেছারুদ্দীন আরও জানান, তিনি একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এনইটি) থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বিএসি-তে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, একই সময়ে সরকারি আলিয়া মাদরাসা এলাকা থেকে আহত অবস্থায় মো. সানাউল্লাহ (৩০) নামে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক। সানাউল্লার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন থানায়। বর্তমানে তিনি সরকারি আলিয়া মাদরাসার ভেতরেই বসবাস করতেন।

অপর পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী প্রভা (২৩) ও ধ্রুব (২২) এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তাওহীদ (২৫) আহত হয়েছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে তারা চলে গেছেন।

এছাড়াও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক আহত হন। বিকেলের দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে আহত হয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যায় এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা রয়েছেন। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।