চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীর চুল কেটে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ 

শরীয়তপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে চুল কেটে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ওই তরুণী ও তার ছোট ভাই-বোনকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রাখার হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া দোকানদার চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে এবং তাঁর ছোট ভাই-বোনদের নির্যাতন করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১টার দিকে সখিপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ছৈয়াল কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী ছৈয়াল কান্দি এলাকার। তার বয়স ১৮ বছর। এ ছাড়া এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরও দুজনের মধ্যে তাঁর ছোট বোনের বয়স ১৩ বছর ও ছোট ভাইয়ের বয়স ৭ বছর।

পুলিশ ও  স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি এলাকার মনির মোল্লার মুদি দোকানে পণ্য কিনতে যান ওই তরুণী ও তাঁর ছোট ভাই এবং বোন। তখন ওই তরুণীর শরীর স্পর্শ করেন এবং কুপ্রস্তাব দেন দোকানদার মনির মোল্লা। এতে রাজি না হওয়ায় আরসি-কোলা চুরির অপবাদ দিয়ে দোকানের পাশে ফৌজিয়া সরদারের বাড়ির একটি কক্ষে ওই তরুণী ও তাঁর ছোট ভাই এবং বোনকে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে ওই বাড়ির উঠানে এনে ওই তরুণীকে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে, মাথার চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মারধর করেন মনির মোল্লা তাঁর আত্মীয় আফসানা আক্তার, ফৌজিয়া সরদার, নিশি সরদারসহ বেশ কয়েকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মনির মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শুক্রবার রাতে সখিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী বলেন, ‘আমার ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে মনির মোল্লার দোকানে যাই। তখন তিনি আমাকে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি বলেন–তুই রাতে আমার কাছে আসবি। আমি রাজি না হওয়ায় আমার শরীরে হাত দেয় মনির। পরে আরসি-কোলা চুরির অপবাদ দিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই-বোনকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রাখে এবং পরে ৪ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। আমি এর বিচার চাই।’

ওই তরুণীর মা বলেন, ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আমার ছোট ছেলে-মেয়েকেও আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পর আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে মনির মোল্লা ও তাঁর পরিবার। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মনিরসহ এই ঘটনায় যারা জড়িত আছে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে মনির মোল্লা বলেন, ‘আমি তাকে কুপ্রস্তাব দেইনি। তিনি আমার দোকানে চুরি করেছে। তাই স্থানীয়রা তাকে গাছে সঙ্গে বেঁধে রেখেছে।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’