গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে আলোচিত ৩০ মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজাকে’ প্রিজন ভ্যান থেকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামির বোন ও দুই পুলিশ সদস্যকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক জুবায়ের রশিদ এ রায় দেন।
রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসান উল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক জুবায়ের রশিদ আসামিদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন ভ্যানে ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে কাশিমপুরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে থামানো হয়। সেখানে প্রিজনার ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নেন। এরপর হাজতি পিচ্চি রাজা ও হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে নেয়। পরে খাইরুল বাশার ভ্যানের সামনে নেওয়া হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ভ্যানে ওঠেননি। পরে ঘটনাস্থল থেকে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে ফিরে এসে প্রিজনার ভ্যানে ওঠেন এবং স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পালানোর ঘটনা সাজানো হয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়াও এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব, কনস্টেবল শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে রয়েছে।