৯ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের আগুন, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকার

প্রায় ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন। রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে ভবনের ছয় তলায় থাকা বিভিন্ন পণ্যের গুদাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনের ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা। মোগলটুলির সরু রাস্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়, জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

চকবাজারের মোগলটুলির মনসুর খান প্লাজার এই আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার ফাইটার ও এলাকাবাসী মিলে যোগ দেয় প্রায় আড়াইশ জন। দুজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয় পড়লে তাদের নেওয়া হয় হাসপাতালে।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ভবনের ছয় তলায় আগুনের সুত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট। ভবনটিতে ভ্যানিটি ব্যাগ, ছাতা, প্রসাধনী সামগ্রী, গ্যাসলাইটারসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারী বাজার ছিল। ভবনের ছয় তলাতে ছিল এসব পণ্যের গুদাম। আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে পঞ্চম ও সপ্তম তলায়। 

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এইখানে ব্যাগের দোকান, ছাতার দোকান ওইখান থেকে আগুনটা লাগছে। আগুন সেখান থেকে সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়। 

রাতে ঘটনাস্থলে আসেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক। অগ্নিকাণ্ডের জন্য রাজউকের গাফিলতিকে দায়ি করেন তিনি। পানির উৎস নিশ্চিতে পুরান ঢাকার পুকুর সংরক্ষণের আশ্বাস দেন তিনি।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে এইখানে যে কয়টা পুকুর আছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। ড্রেনেজগুলোকে নতুন করে করার চেষ্টা করছি।’

ফায়ার সার্ভিস বলছে, ভবননের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার ঘাটতি, গুদামের দাহ্য পদার্থ এবং সরু রাস্তার কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এইখানে বিভিন্ন ধরনের গোডাউন আছে। সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর আগুন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়। এইখানে সরু রাস্তাঘাট থাকার ফলে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে।

আগুনের কারণ নির্নয় ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি হবে, জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।