টিপ পরায় শিক্ষিকাকে ইভটিজিং করা পুলিশ সদস্য এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করার পর থেকে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরাও।
তেঁজগাও কলেজের শিক্ষিকা লতা সমাদ্দারকে শনিবার ফার্মগেটে টিপ পরা নিয়ে কটূক্তি করেন এক পুলিশ সদস্য। প্রতিবাদ করায় আরো চড়াও হন ঐ ব্যক্তি। এক পর্যায়ে শিক্ষিকার ওপরে মোটরসাইকেল তুলে দেন অভিযুক্ত পুলিশ।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। অভিযুক্ত ঐ পুলিশকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।
উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও। নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা। রোববার সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে কপালে টিপ পরায় এক নারী শিক্ষককে কটূক্তি ও পায়ে মোটরসাইকেলের চাকা তুলে হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুবর্ণা মুস্তফা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোন সংবিধানে, কোন আইনে লেখা আছে যে, একজন নারী টিপ পরতে পারবেন না। এখানে হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এমনকি তিনি বিবাহিত না বিধবা, সেটা বিষয় নয়। একটি মেয়ে টিপ পরেছেন। তিনি একজন শিক্ষক। রিকশা থেকে নামার পর দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার ইভটিজ করেছেন। প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে তুই-তোকারিও করা হয়েছে। অসম্মান করা হয়েছে।
সংসদে সুবর্ণা মুস্তফা বলেন, নারী সমাজের জন্য এটি অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা। দেশে বখাটেদের ইভটিজিংয়ের ঘটনা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু যখন দেশের আইন রক্ষাকারী কাউকে ইভটিজিংয়ের ভূমিকায় দেখা যায়, তখন তা সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। সংরক্ষিত নারী আসনের এই সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
নারীর টিপ নিয়ে কটাক্ষ করা, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান বলে মনে করে নাগরিক সমাজ।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অভিযোগ করেন, টিপ পরায় পুলিশের পোশাক পরা একজন তাকে হেনস্তা করেছেন।
লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের ওপর উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে বিস্তারিত জানান।