বাজেটের চার-পঞ্চমাংশ ব্যয় হলেও মশার হাত থেকে নিস্তার নেই যশোরবাসীর। দিন দিন মশার উপদ্রব বাড়তে থাকায় পাঁচ লক্ষাধিক পৌরবাসীর নাভিশ্বাস দশা। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বাজেট না এলে সহসাই মিলছে না সমাধান। অন্যদিকে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।
দিনে কিংবা রাতে মশার যন্ত্রণা ঘুম কেড়ে নিয়েছে যশোরবাসীর। মশার উপদ্রব জনজীবনকে অতীষ্ঠ করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে রোগব্যাধি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় চরম ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।
পৌরবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ বড় অংকের ব্যয়ের কথা ফলাও করে প্রচার করলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকরি ভূমিকা নেই। দিনের বেশিরভাগ সময় মশারি টাঙিয়ে বা কয়েল জ্বালিয়েও মিলছে না স্বস্তি। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে শহরের পাঁচ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে।
যশোর পৌরসভার মশা নিধন বাজেটের প্রায় চার-পঞ্চমাংশই এরই মধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। অথচ মশা নিধনে দৃশ্যমান কোনো সফলতা নেই। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সারা বছরই আমাদের খণ্ডকালীন মশক নিধন কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। তবে একা পৌরসভার পক্ষে মশা নিধন সম্ভব নয়।’
এদিকে মশার উপদ্রব বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ১৩৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬১ জন, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। আর চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ‘একটি ৭২ ঘণ্টা পর পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নেয়। আমরা যদি আমাদের বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি ৭২ ঘণ্টার আগে ফেলে দিতে পারি, তাহলে মশা জন্মাতে পারবে না।’
জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস আর বাজেটের হিসাব-নিকাশের ফাঁদে না পড়ে, দ্রুত মশা নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপ চায় যশোরবাসী। না হলে চলতি মৌসুমে মশার কামড়ে জনস্বাস্থ্য আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।