পুলিশ সদস্য সুমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

খুলনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত পুলিশ কনস্টেবল সুমন কুমার ঘরামীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার দুপুর  ময়নাতদন্ত শেষে নিহত তার মরদেহ কেএমপির পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ৩টায় সুমনের পরিবারের সদস্যের আর্তনাদ ও আহাজারীতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাইন্সে গার্ড অব অনার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

গার্ড অব অনার শেষে পরিবার মরদেহ নিয়ে বাগেরহাটের কচুয়ায় উপজেলায় গোপালপুর ইউনিয়নের মালিপটল গ্রামে রওনা হয়েছে। সেখানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। 

কেএমপি কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক জানান, নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা এবং মরদেহ সৎকারে আরও ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে ৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। সুমনের পরিবারে শিক্ষিত কেউ থাকলে পুলিশে চাকরির উপযোগী কেউ থাকলে তাকে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। কেএমপি আজীবন পরিবারটির পাশে থাকবে। পুলিশ কনস্টেবল সুমনের হত্যাকারীদের বিচার করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।  

এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীদের পিটুনিতে সুমন কুমার ঘরামী নিহত হন। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায়। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন নগরীর বয়রা এলাকায়। তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার সৌমেন বিশ্বাসের দেহরক্ষী ছিলেন।
 
এ ঘটনায় এসআই মোস্তফা সাকলাইন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১ হাজারের বেশি আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।