সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ১৮ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরার কুশখালী ও কৈখালী সীমান্ত এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১৮ জনকে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
হস্তান্তর ১৮ বাংলাদেশি হলেন- ঢাকার কামরাগিংর চর থানার মাদ্রাসা গলির বাবু মিয়ার মেয়ে মারিয়া আক্তার, সেলিম মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার নগরঘাটা গ্রামের বিমল কৃষ্ণ মন্ডলের মেয়ে রাণী মন্ডল, দেবাশীষ মন্ডলের মেয়ে রিয়া মন্ডল, খুলনার কয়ারা উপজেলা নাকসা গ্রামের মৃত আমির গাজীর মেয়ে নাছিমা বিবি, রেজাউল সরদারের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন, মিস রোকাইয়া, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বরাব গ্রামের রহমত আলীর মেয়ে সাথী আক্তার, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পাইগাজী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে জাকির হোসেন, নলতার নুর আলী গাজীর ছেলে এনছাফুল ইসলাম, খুলনার বি ব্লক গ্রিন ল্যান্ড গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে তাসলিমা বেগম, আব্দুর রবের মেয়ে ইয়াসমিন, গোপালগঞ্জের তালতালা গ্রামের হারাধনের ছেলে মনিতোষ রায় এবং মিরপুর সেকশন গ্রামের সিরাজের ছেলে নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার গদাইপুর গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে মো. নুর আলম (৩৬), তাঁর স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৬) এবং তাদের দুই মেয়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা ৩৩বিজিবির প্রেস ইউংয়ের কর্মকর্তা মিলন হোসেন। তিনি জানান, সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ১৮ জন নাগরিক হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। তারা অবৈধভাবে ভারতে ছিলেন। বিএসএফ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বিজিবির সাথে যোগাযোগ করে আটক বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে হস্তান্তর করেছে। রাতেই তাদের সাতক্ষীরা সদর ও শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কৈখালী সীমান্তে আটক নূর আলম জানান, আড়াই বছর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের কেরালা শহরে যান তারা। চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে সেখানেই ছিলেন। এসময় তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা সেখানে অবৈধ হয়ে যান। পরে তারা অবৈধ পথে বাংলাদেশের প্রবেশের জন্য সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় বিএসএফ তাদের আটক করে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১৪ বাংলাদেশিকে গ্রহণ করে শনিবার রাতে থানায় দিয়েছে বিজিবি। আজ রোববার তাদের স্বজনদের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে শ্যামনগর থানায় সোপর্দকৃত পাঁচজনকে রোববার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।