মামলাসহ নানা জটিলতা, নদী এখন বদ্ধ জলাশয়

মামলাসহ নানা জটিলতায় খনন শেষ না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার নবগঙ্গা নদী এখন বদ্ধ জলাশয়। একদিকে কচুরিপানা জমা ও মশার উপদ্রব, অন্যদিকে নদীর পাড় দখল করে চাষাবাদ করছেন অনেকে। নদীর মালিকানা দাবিতে মামলা ও যুব উন্নয়নের তিনটি ভবনের কারণে নদীর শেষ এক কিলোমিটার খনন করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। জটিলতার অবসান হলে খনন শেষ করার কথা জানালেন কর্মকর্তারা।

চুয়াডাঙ্গায় নবগঙ্গা নদীর খনন কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ঘোড়ামারা ব্রিজ থেকে ১৪ কিলোমিটার অংশে কাজ শুরুর পর নিজেদের জমি দাবি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে মামলা করেন অনেকে। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তিনটি ভবনও নির্মাণ হয়েছে নদীর গতিপথে।

স্থানীয়রা বলেন, নানা বাধার কারণে ২০২১ সালে ১৩ কিলোমিটার খনন করে শেষ হয় প্রকল্পের কাজ। বাকি এক কিলোমিটার খনন না হওয়ায় নদীতে পানি প্রবাহ সৃষ্টি হয়নি। কচুরিপানায় ভরে গেছে খনন করা অংশ। অনেক স্থানে নদীর পাড় দখল করে চলছে চাষাবাদ। এ ছাড়া এলাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রব।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, খনন অসমাপ্ত রাখার কারণে নবগঙ্গা এখন বদ্ধ জলাশয় ছাড়া আর কিছু নয়। নদীতে পানি প্রবাহ না থাকায় নদীর পুরো ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানায় ভরে গেছে। এতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে, নদীও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। নদী এলাকার রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল দুরুহ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে নদীর পাড় দখল করে চাষাবাদ ও গবাদী পশুর বিচরণক্ষেত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীর উভয় পাড় বেদখল হয়ে গেছে।

পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, নবগঙ্গা নদী খনন প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় আট কোটি টাকা। নানা বাধার কারণে এক কিলোমিটার অংশ খনন করতে না পারায় সে সময় পাইপ দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। বরাদ্দ এলে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণ এবং নদীর পাড় দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।