টিকটক করা নিয়ে কলহ, স্ত্রীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দিঘলিয়া গ্রমে সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। এই সূত্রধরে অনেক অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তাঁর। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করে থাকেন। এই নিয়ে লিমন ও সুমনা দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। সোমবার সকাল ৮টার দিকে স্ত্রীর একই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথোপকথনের জেরে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এটি লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পরে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে লিমন বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা স্বত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। পরবর্তীতে লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। 

পুলিশ আরও জানায়, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিকভাবে সারাদিন কাজ শেষ করেছিলেন  বিকেল ৫টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্নহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনার স্বামী লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পর আত্নহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।