বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে মাছ ধরার সময় সেলিনা বেগম (৫৫) নামের এক নারীকে টেনে নিয়ে যায় কুমির। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য নারীরা বৈঠার আঘাত করলে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় কুমির।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার জয়মনি লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত সেলিনা বেগম মোংলা উপজেলার জয়মনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল শেখের স্ত্রী এবং স্থানীয় মোটরগাড়ি চালক জাহিদুল শেখের মা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেলিনা বেগম সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে খুচুনি জাল টেনে চিংড়ি মাছের রেণু পোনা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য কুমির তাকে আক্রমণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে নদীর গভীর পানিতে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য জেলেদের চিৎকার ও তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায় তার সাথে থাকা অপর নারী জেলে রজিনা বৈঠার আঘাত করলে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় কুমির। পরবর্তীতে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস।
এদিকে এ ঘটনার পর সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে মাছ ধরতে যাওয়া সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের নদী-খালে চলাচলকারী জেলেদের আরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার এবং সাবধানে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।