বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগ, শিক্ষক ছেলে-পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃদ্ধা মাকে মারধর করে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক সন্তান ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার মারধরের ঘটনার পর রোববার সকালে এ ঘটনায় ওই দুজনের নামে মামলা হয়েছে।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২) শ্যামনগরের কলবাড়ী গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী। মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম (৫৩) বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা (৪৫)। 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন না। এক দশক আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আনোয়ারা বেগমের নামে থাকা সম্পত্তিও ছেলে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এরপর তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ জুন দুপুরে বড় ছেলে ও পুত্রবধূ লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারা বেগমের কক্ষে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে ছেলে মনিরুল ইসলাম লাঠি দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাত মুখে লেগে সামনের ১টি দাঁত ভেঙে যায় এবং ঠোঁট ফেটে যায়। পরে পুত্রবধূ ঝর্ণা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে নাকও ফেঁটে যায়।  এ সময় আনোয়ারা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে নাছিমা খাতুনকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। 

শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।