বাগেরহাটে চাকলাদার আবুল কালাম (৬০) নামের এক বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে এটি পরিকল্পিত হত্যা না আত্মহত্যা তা এ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা কালামের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাকলাদার আবুল কালাম বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের মৃত চাকলাদার হাতেম আলীর ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন এবং পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি গত এক বছরের বেশি সময় ধরে একাই তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন।
কালামের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘বনিবনা না হওয়ায় আমার ভাশুর কালামকে ছেড়ে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একা তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তারা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার ভাশুর কালামকে তিনবেলা খাবার আমি দিয়ে আসছি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত ১০টার পরে তাকে ডেকে খাবার দেই। আজ শনিবার সকালে তাকে ভাত দিতে এসে ডাকাডাকি করতে থাকি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখি তিনি গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় বসে আছেন। এই দেখে আমি চিৎকার করতে থাকি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু বলেন, ‘কালাম দলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়ি এসে দেখি তিনি ঘরের খাটে বসা, গলায় কাপড় প্যাঁচানো। যেভাবে গলায় কাপড় প্যাঁচানো তাতে মনে হয়নি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এভাবে আত্মহত্যা করা যায় না। আমরা তার এমন মৃত্যুতে ব্যথিত। তার মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে, সেই দাবি জানাচ্ছি।’
বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতা কালামের মরদেহ খাটের ওপর গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করেছে। শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বলা সম্ভব হবে।’