বাগেরহাটে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় মামলা

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে পরিবার। আজ বুধবার সকালে কচুয়া থানায় নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার ও হত্যার কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি। সম্ভাব্য দুই তিনটি কারণ ধরে হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কাজ শুরু করেছে তারা। আজ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে নিহতের স্বজনেরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন–কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং শাশুড়ি রাশিদা বেগম (৯৩)। এরমধ্যে বৃদ্ধা রাশিদা বেগম কয়েকদিন আগে তার মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আহাদ আলী পেশায় ছিলেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

নিহতের স্বজন মিমি বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার নানি রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আমার খালাতো ভাই আমাদের ফোন দিয়ে বলে নানি মারা গেছেন। তখন আমি নানির খবর জানতে আমার খালা মনিরাকে ফোন দিতে থাকি কিন্তু তিনি তা গত তিন দিন ধরে রিসিভ করছেন না। আজ আমরা খালা বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দেখি নানুর অবস্থা খুবই খারাপ, এক রুমে আমার নানু, আরেক রুমের মধ্যে খালামনিকে খাটের নিচে ফেলানো আর খালাতো ভাই ঘরের খাটের উপর। তাদের সাথে কারও বিরোধ আছে কিনা, কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা এখন বলতে পারছি না। ঘরে খালা মনির টাকা পয়সা ছিল। নির্মমভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি।’ 

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান আজ সকালে বলেন, ‘কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজন খুনের ঘটনায় নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার ও হত্যার কারণ নিশ্চিত হতে পারিনি। সম্ভাব্য দুই তিনটি কারণ ধরে পুলিশ একই পরিবারের তিনজনের হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হবে।’