হাজত থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ভিডিও বার্তা, ওসিসহ ৩ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও এনিভা খাতুনকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাদের প্রত্যাহারের সঙ্গে এসব অভিযোগের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগের নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে ওসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী থানা হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বক্তব্যে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে শ্নোগান দিতে দেখা যায়। 

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী থানায় আসছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি থানা হাজতে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। 

জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মাস খানেক আগে খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি সাতক্ষীরায় এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি জেলা ছাত্রদল নানাবিধ কারণে ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ করে। এছাড়া থানা হাজতের মধ্যে থাকা আসামিদের ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সবর হন। এসব কারণে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় উস্কানিমুলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

তবে ওসিকে প্রত্যাহারের সাথে এসব অভিযোগের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। তিনি জানান, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।