লক্ষ্মীপূজা ঘিরে সরগরম সোলার ফুলের বাজার, ব্যস্ত বাগেরহাটের কারিগরেরা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা ঘিরে বাগেরহাটে জমে উঠেছে সোলা দিয়ে তৈরি ফুলের বাজার। পূজার প্রস্তুতিতে এসব ফুল কিনছেন ক্রেতারা। কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চলছে বেচা-কেনা। তবে ফুলের চাহিদা থাকলেও তৈরির শ্রম ও সময়ের তুলনায় উপযুক্ত পারিশ্রমিক মিলছে না বলে দাবি করেছেন কারিগরেরা। তারপরও বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের পালপাড়ায় ১২ থেকে ১৫টি পরিবার সোলার ফুল তৈরির সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় এসব ফুল। কেউ সোলা কেটে আকার দেন, কেউ তৈরি করেন পাপড়ি, আবার কেউ ফুলের বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন নান্দনিক রূপ। এভাবেই পরিবারের সবাই মিলে চলে ফুল তৈরির কাজ।

কারিগরদের ভাষ্য, একটি ফুল তৈরি করতে প্রায় এক দিন সময় লাগে। কাজের ধরন ও নকশার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময় ও শ্রম। দুই মাসে একেকটি পরিবার দেড়শ থেকে দুইশটি ফুল তৈরি করতে পারে। উৎপাদনের এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পূজার মৌসুমকে সামনে রেখে ফুল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

কারিগরদের অনেকের কাছেই এই পেশা কেবল জীবিকা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। পূর্বপুরুষদের হাত ধরে শুরু হওয়া কাজ এখনো ধরে রেখেছেন পরবর্তী প্রজন্ম। তবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে ফুল তৈরি করলেও সেই অনুযায়ী আয় হয় না বলে তাদের অভিযোগ। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই ক্ষুদ্র শিল্প টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

কারিগরদের অনেকের কাছেই এই পেশা কেবল জীবিকা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়ালক্ষ্মীপূজা সামনে রেখে সোলার ফুলের বেচাকেনা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এসব ফুল নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। পূজার আয়োজনের জন্য পছন্দমতো ফুল কিনে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা। বিক্রি ভালো হওয়ায় কিছুটা আশাবাদী কারিগররা। তবে মৌসুমি চাহিদার বাইরে সারা বছর কাজের সুযোগ এবং উৎপাদিত ফুলের ন্যায্য দাম পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্গাপূজার পর পূর্ণিমা তিথিতে উদ্‌যাপিত হয় লক্ষ্মীপূজা। এই পূজাকে ঘিরে প্রতি বছরই সোলার ফুলের চাহিদা তৈরি হয়। আর সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত হয়ে ওঠে শিবপুর গ্রামের পালপাড়ার পরিবারগুলো। সীমিত পরিসরে হলেও তাদের হাতে তৈরি ফুল ছড়িয়ে পড়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে।

বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েকটি পরিবারের জীবিকা ও ঐতিহ্য। পূজার মৌসুমে বিক্রি বাড়লেও কারিগরদের শ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা এবং এই ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।