সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নেত্রকোণার মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় কমপ্লিট শাটডাউনের কর্মসূচিতে চলছে। এই কর্মসূচি চালনকালে দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছে। এর মধ্যে মদনে গুরুতর আহত ৫ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো আহতরা হলেন– এইএসসি পরীক্ষার্থী ইব্রাহিম (২১), পুলিশ কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম, শিক্ষার্থী নাইম (২৪) ও শিক্ষার্থী মাজহারুল ( ১৭)।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক তায়েব হোসেন হোসেন ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ময়মনসিংহে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। এই চিকিৎসক বলেন, ‘হাসপাতালে এখন নাগাদ ৩২ জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও আহত আসছে। এছাড়াও ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
আহত সাংবাদিক দৈনিক জনতার মদন উপজেলা প্রতিনিধি শামছুল হক ভুইয়া। তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, বেলা সোয়া ১টার দিকে মদন সরকারি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীরপুর এলাকায় যাচ্ছিল। পথে মগড়া নদীর শহীদ আব্দুল কদ্দুছ ব্রিজে পৌঁছলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ইট–পাটকেল ছুড়ে। তখন পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ পিছু হটে একটি গ্যারেজে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তখন এই সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, পুলিশ, সাংবাদিক ও ছাত্রলীগের অন্তত ৬০ জন আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে দুপুরে মোহনগঞ্জে সদরে রেলস্টেশন এলাকায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা হয়। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল কান্তি সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মারমুখী হয়ে মিছিল সহকারে সদরের বাজারের ভেতরে ঢুকছিল। এসময় পুলিশ অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে মগড়া নদীর ব্রিজে মিছিলটি আটকানোর চেষ্টা করে।’
‘তখন ছাত্ররা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় ৯ জন পুলিশের সদস্য আহত হন। বর্তমানে সেখানের পরিস্থিতি আইনশৃংখলা বাহিনীর নিযন্ত্রণে রয়েছে।’ যোগ করেন মদন থানার ওসি।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলাম। বিনা উস্কানীতে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে ছাত্রলীগ এই হামলায় যোগ দেয়। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এখনও সব আহতের খবর পাইনি। যত সময় যাচ্ছে ততই আমাদের আহতের খবর পাচ্ছি।’
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘মদনে শিক্ষার্থীদের হামলায় পুলিশের ৯ জন আহত হয়েছেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রযেছে। মোহনগঞ্জে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া - পাল্টা ধাওয়া হলেও সংঘর্ষ হয়নি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ সেখানেও কাজ করছে। তাছাড়া জেলার অন্যত্র কোথাও কোনো কিছু হয়নি।’