পুরুষের চেয়ে সংখ্যায় বেশি, জামালপুরে নির্বাচনে নারীরাই ফ্যাক্টর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরে নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। জেলার পাঁচ আসনে মোট নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪১ জন। সবচেয়ে বেশি নারী ভোটার রয়েছে জামালপুর সদর ৫ আসনে।

নারী ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয় নিশ্চিতের চেষ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে নারী ভোটারেরা বলছেন, বুঝে-শুনেই তাঁরা যোগ্য প্রার্থী খুঁজে নেবেন।

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণের পরিচিত মুখ চা দোকানি মমতাজ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক কাপ চা বিক্রি করলেও তাঁর সংসারের ভাগ্য বদলায়নি। নির্বাচনেও তাঁর জীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, এমনটাই জানালেন খেটে খাওয়া স্বল্পআয়ের এই নারী। 

মমতাজের মতোই বাল্যবিয়ে, নির্যাতনসহ নানা সামাজিক সমস্যার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হচ্ছে জামালপুরের অনেক নারীকে। গত নির্বাচনগুলোতে নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের ফুলঝুড়ি থাকলেও কার্যত কোনো ফল পাননি নারীরা।

স্থানীয় নারীরা বলছেন, এলাকায় বাল্যবিবাহ, পড়াশোনায় প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক নির্যাতনসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যাগুলো নিরসন করে যে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন তাঁকেই ভোট দেবেন এলাকাবাসী। 

এবারের নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা, পুরুষ ভোটারের চেয়ে ৩ হাজার ৯১২ জন বেশি। তাঁদের ভোট যে পাবে, সেই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত–এমন বিশ্লেষণ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোও নারী ভোটারদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নারীদের উন্নয়নে কাজ করব। নারীদের তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক স্থানে বসিয়ে দেশ গড়তে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জামালপুর শহর শাখার আমির মো. আল ইমরান সুজন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী মাঠে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। এবার ইনক্লুসিভ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন নেতৃত্ব আনার চেষ্টা করছি।’