জামালপুর-কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে এক রাতে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থান এবং নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, সোমবার গভীর রাতে জামালপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দাঁতভাঙা বিওপির আওতাধীন ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের বিপরীতে ভারতের দীপচর এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে মোল্লারচর সীমান্তের ১০৬২ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের কুচুনিমারা এলাকা দিয়ে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়।
এ ছাড়া ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের মানকারচর এলাকা দিয়ে ১২ থেকে ১৩ জন, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের সদরটিলা এলাকা দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের লুকায়েরচর এলাকা দিয়ে ১৮ থেকে ২০ জন, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের বালুরঘাট এলাকা দিয়ে ৭ থেকে ৮ জন, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের দুর্গাপাড়া এলাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০ জন এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের বিলডুবা এলাকা দিয়ে ৭ থেকে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাতে এসব সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় পক্ষের লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় বিজিবির সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নেন এবং সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা ও টহল জোরদার করেন। ফলে বিএসএফের এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও পালাক্রমে সীমান্ত পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।’